২ বছরেও সচল হয়নি এক্সরে মেশিন

332
0

বগুড়া: সরবরাহের ২ বছর পার হলেও বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন কাজে আসছে না। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টল না করে দেওয়ায় সেটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে জেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরেজ ডিপো (সিএমএসডি) ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের পক্ষ বারবার যোগাযোগ করলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি চালু করার ক্ষেত্রে (ইনস্টল) কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অর্ধ কোটি টাকার এই এক্সরে মেশিনটি হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে পড়ে আছে।

বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডিজিটাল এক্সরে মেশিনের চাহিদা অনুযায়ী সিএমএসডি’র মাধ্যমে ঢাকার বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এক্সরে মেশিন (৫০০এমএ) সরবরাহ করে। পরে সেটি বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের রেডিওলেজি’র টেকনিশিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাতের বেলায় মেশিনটি ট্রাকযোগে হাসপাতালে দিয়ে তারা চলে যায়। পরে ২০১৭ সালের আগস্টে এর ডিজিটাল ইউনিট কম্পিউটার রেডিওগ্রাফি (সিআর) ইউনিটটি সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিন পরে থাকার পরেও এটি ইনস্টল করে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, সিআর ইউনিট চালু না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরবাহকৃত এক্সরে মেশিনের (৫০০এমএ) এনালগ অংশ দিয়ে পুরাতন পদ্ধতিতে (এক্সরে ফ্লিম রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ডেভলপ) এক্সরে কার্যক্রম চালু রাখে। তবে এক্সরে করার পর ফ্লিম প্রিন্ট করার জন্য কম্পিউটার রেডিওগ্রাফি বা সিআর ইউনিটটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্তের মতো পড়ে রয়েছে। এর প্রিন্টার, সিআর ইউনিটসহ ক্যাসেট ও ফ্লিম কার্যকর রয়েছে, না অচল হয়ে গেছে সে ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু বলতে পারেছেন না।

একাধিক সূত্র জানায় অত্যাধুনিক এই ডিজিটাল এক্সরে ইউনিটের মূল্য অর্ধ কোটি টাকার মতো হতে পারে। তবে এর প্রকৃত মূল্য কত বা এটি কেন ইনস্টল করা হয়নি, সে বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কিছু বলতে রাজি হননি।

সূত্র জানায়, হাসপাতাল থেকে এক্সরে করতে রোগীদের যেখানে ব্যয় হয় মাত্র ২০০ টাকা সেখানে বাইরে থেকে এক্সরে করতে রোগীদের ব্যয় হচ্ছে ৮০০ টাকা। যে কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার খরচও বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে বর্তমানে এনালগ পদ্ধতির এক্সরে করা হচ্ছে। প্রয়োজনের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্সরে করে হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখাতে হচ্ছে। এনালগ পদ্ধতির কারণে বর্তমানে ৫০/৬০টি এক্সরে হচ্ছে।