সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সেবা দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

250
0

দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া যাত্রা শুরু করে ১৯৯৯ সালের ২৭ নভেম্বর। কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও এজেন্ট ব্যাংকিংসহ নতুন নতুন সেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌছেছে ব্যাংক এশিয়া। গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র মানুষদেরকেও সেবা দেয়া হচ্ছে।
ব্যাংকটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আরফান আলী।

রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টাকন্টিনেন্টালে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ডিএমডি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান মোল্লা, হেড অব কর্পোরেট এন্ড লার্জ লোন শাফিউজ্জামান, হেড অব এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ডিভিশন এস. এম. ইকবাল হোসেন, হেড অব চ্যানেল ব্যাংকিং সর্দার আকতার হামিদ, হেড অব ট্রেজারি আরিকুল আরেফিন, হেড অব সিআরএম ব তাহমিদুর রশীদ, কোম্পানী সেক্রেটারী এস. এম. আনিসুজ্জামান এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দর আগামীর জন্য’ স্লোগান নিয়ে ২০ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল ব্যাংক এশিয়া। এই সময়ে বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকটি অনেক ঘটনার সাক্ষী। ব্যাংকটি দুটি বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রম অধিগ্রহণ করেছে। ইসলামিক ব্যাংকিং সেবায় মুনাফা ভাগের মডেল প্রথম চালু করেছে। আর এখন এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে পেছনে ফেলেছে অনেক ব্যাংককে। ২১ বছরে এসে ব্যাংকটি এখন করপোরেট সেবার পরিধি কমিয়ে এসএমই ও রিটেইল ব্যবসায় মনোযোগ দিতে চায়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যাংক এশিয়া বর্তমানে ১২৮ টি শাখা, ৫ টি ইসলামিক উইন্ডো, ৩৩০০ এর বেশী এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় সকল প্রকার ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়াও ব্রোকারেজ হাউজের ৮টি শাখা এবং দেশের বাইরে লন্ডন ও আমেরিকায় ব্যাংকের দুটি এক্সচেঞ্জ হাউজ রয়েছে। ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়ার হাত ধরেই এদেশে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং যাত্রা শুরু করে, যার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত, দুর্গম জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে আর্থিক অর্ন্তভূক্তির মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

মোঃ আরফান আলী বলেন, ব্যাংক এশিয়া ২০ বছরের পথচলায় ব্যাংকিং সেবায় নতুন নতুন মাত্রা যোগ করে চলেছে। কৃষি ও এসএমই ঋণ সহজীকরণ, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রদান দ্রæতকরণ, ইসলামিক ব্যাংকিং সেবায় আইএসআর (ইনকাম শেয়ারিং রেশিও) মডেল প্রবর্তন, পেয়োনিয়ার পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস চালু, এজেন্ট ব্যাংকিং প্রবর্তন প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার নব নব দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

তিনি জানান, ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্যাংক এশিয়া গ্রাহক, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মাসব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন, এমপ্লয়ি ডে, রক্তদান কর্মসূূচী, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ^বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আর্থিক অর্ন্তভূক্তির উপর গোলটেবিল আলোচনা, ট্রি প্লানটেশন এবং দুস্থ, অসহায় মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প- সাপোর্ট ফর সারভাইভাল।

বর্তমান ব্যাংকিং পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের উদ্বেগ রয়েছে। তবে এটি থাকবে না। একসময় ব্যাংকাররা এবং গ্রাহক উভয় মিলেই খেলাপির সংকট দূর করবেন। এছাড়া ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং এটিএম লেনদেনে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। সেই ঝুঁকি প্রশমনে কাজ করছে ব্যাংকগুলো। এই ঝুঁকি একেবারে নির্মূল করা যাবে না। তবে সর্বশেষ প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।