সুনির্দিষ্ট প্যাটার্নের ইকোনোমি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের তাগিদ

228
0

সাধারণ মানুষের আর্থিক ক্ষমতা বিবেচনায় এনে জেলা শহর ও মফস্বলের জন্য সুনির্দিষ্ট প্যাটার্নের ইকোনোমি সিনেপ্লেক্স নির্মাণের তাগিদ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নেতাদের সাথে বৈঠককালে শিল্পমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার এ তাগিদ দেন। রাজধানীর মিন্টুরোডে অবস্থিত শিল্পমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু, সহ-সাধারণ সম্পাদক আলিমুল্লাহ খোকন, কোষাধ্যক্ষ মেহেদী হাসান সিদ্দিকী (মনির), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোরশেদ খান হিমেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইলা জাহান নদী এবং সদস্য জাহিদ হোসেন ও রশিদুল আমিন (হলি) উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও গ্রাম পর্যায়ে নির্মল বিনোদনের ধারা অব্যাহত রাখতে সিনেমা হল প্রয়োজন। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, অনৈতিক কর্মকান্ড ও জঙ্গিবাদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব। তিনি শহরের জন্য একই প্যাটার্নের এবং মফস্বলের জন্য একই মডেলের লো কস্ট স্টিল স্ট্রাকচার সিনেপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করতে সমিতির নেতাদের পরামর্শ দেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে সমিতির নেতারা বলেন, চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো এসআরও জারি করা হয়নি। ফলে চলচ্চিত্র শিল্পখাত অন্যান্য শিল্পখাতের মতো সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধাদি পাচ্ছেনা। তারা এ বিষয়ে দ্রুত একটি এসআরও জারি করতে ‌শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈঠকে সমিতির নেতারা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা, বেসরকারি উদ্যোগে ইকোনমি সিনেপ্লেক্স নির্মাণে সূদমুক্ত ব্যাংক ঋণ প্রদান, এসএমই শিল্পের তালিকায় চলচ্চিত্র শিল্পখাতকে অন্তর্ভুক্তকরণ ও অন্যান্য এসএমই’র মতো স্বল্প সুদে চলচ্চিত্রখাতে ঋণের ব্যবস্থাকরণ, ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের বিক্রয় ভেল্যুকে মরগেজ হিসেবে বিবেচনা, চলচ্চিত্র ও সিনেপ্লেক্স নির্মাণসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর অন্যান্য শিল্প সামগ্রীর সমপরিমাণ কর আরোপ, চলচ্চিত্র রপ্তানিতে তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের মতো প্রণোদনা প্রদান, চলচ্চিত্র রপ্তানি আয়কে রেমিটেন্স হিসেবে বিবেচনা এবং এখাতে রেমিটেন্সের অনুরূপ সুবিধাদি প্রদান, অন্য শিল্পখাতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মতো চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যবহৃত বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ, চলচ্চিত্র আমদানির ওপর স্বল্প ট্যাক্স নির্ধারণ, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সিনেমাহলের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেবা চালু, যৌথ প্রযোজনার ছবি ক্ষেত্রে বিদেশি শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও তাদের সম্মানির ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট রহিত করে আয়কর সহজীকরণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তারা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র হচ্ছে নির্মল আনন্দ ও সুস্থ বিনোদনের কার্যকর গণমাধ্যম। এক সময় গ্রাম বাংলার জনগণের সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করলেও কালের আবর্তে এটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি সুস্থ ও পরিশীলিত সমাজ বিনির্মাণে এই শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।