সাহেদকান্ড: বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি তলব

198
0

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধান টিম প্রধান উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের সই করা তলবি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান বরাবর পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এর প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান বরাবর পাঠানো চিঠিতে রিজেন্ট হাসপাতাল ও গ্রুপের নামে-বেনামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব, সাহেদের ব্যক্তিগত হিসাব ও তার পরিবারের সদস্যের নামে থাকা ব্যাংক ঋণ বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।তলবি চিঠিতে দ্রুত নথিপত্র দুদকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সকালে সাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে প্রতারণা করে, আয়কর ফাঁকি দিয়ে, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই দুদকের উপপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মো. নেয়ামুল হাসান গাজী ও শেখ মো. গোলাম মাওলা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি গতকাল সোমবার করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই সনদ দেয়ায় অভিযুক্ত ডা. সাবরিনা চৌধুরী, তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট। তাদের অ্যাকাউন্ট জব্দের পাশাপাশি আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে। কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকলে সে তথ্যও দিতে হবে। আগামী ৩০ দিনের জন্য এসব ব্যক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেয়া হয়েছে।

#