রোজিনাকে হেনস্তার দ্বিতীয় দিন

59
0

মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ : প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হেনস্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও হেনস্থকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আয়োজিত বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর যুগপথ আন্দোলন ও মানববন্ধন থেকে এসব দাবি ও হুঁশিয়ারি জানানো হয়।

যৌথভাবে আয়োজিত মানববন্ধনটি অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম; ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন; রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা; বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট, বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক পরিষদের সংবাদকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের অর্থ সম্পাদক মাসুদুল হক বলেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। যার ফলে তিনি আজ কারাগারে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। যারা অন্যায়ভাবে তাকে হেনস্ত করেছে তাদের আমরা শাস্তির দাবি জানাই। এছাড়া যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটিতে আমরা আশ্বস্ত নই। আমরা চাই অন্য মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ অফিসার দ্বারা তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, আমাদের বোন, সহকর্মী রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমরা আশা করব আগামী বৃহস্পতিবার আদালত যে জামিনের শুনানি করবে, সেই শুনানিতে আমাদের বোন মুক্ত হবে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আগামীতে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা কি করবো, আপনারা কি করবেন সম্মিলিতভাবে সেই নির্দেশনা দিব। সে পর্যন্ত আপনাদের অপেক্ষা করতে বলছি।

মানববন্ধনে অন্যান্যরা বলেন, ১৭ মে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য সচিবের পিএস এর রুমে প্রায় ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। যা আইনের চরম লংঘন। মন্ত্রণালয়ের একজন নারী কর্মকর্তার মারমুখী আচরণ গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি। সাংবাদিক রোজিনার প্রতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আচরণ ব্যক্তিগত আক্রোশের বর্হিপ্রকাশ। একের পর এক তাদের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় তারা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। ঘটনার দিন সিনিয়র সাংবাদিকরা বার বার বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা কর্নপাত করেন নাই। যে সকল দুর্নীতির রিপোর্ট বন্ধ করার জন্য রোজিনা ইসলামকে হেনস্থ করা হয়েছে, সেটা কখনোই বন্ধ হবে না। বরং আমরা আরও সরকারের সকল দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুখোশ উন্মোচন করবো।

ডিআরইউ নেতাদের বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক: মামলা প্রত্যাহার করে নির্যাতিত প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির নেতারা। অন্যথায় রাজপথে অবস্থান করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁসিয়ারি দিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে রোজিনাকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি আবদাল আহমেদ, প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, ডিআরইউয়ের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, ইলিয়াস হোসেন ও রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সেক্রেটারি সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ ও রিয়াজ চৌধুরী, ডিআরইউর সহ সভাপতি ওসমান গনি বাবুল, বিএফইউজের সদস্য শেখ মামুনুর রশিদ, বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাস, সেক্রেটারি শামীম আহমেদ, ক্রাবের সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আরিফ, ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী, ডিআরইউর কার্যনির্বাহী সদস্য আজিজুর রহমান আজিজ, সাবেক নেতা আজমল হক হেলাল, শেখ জামাল হোসাইন, সিনিয়র সদস্য শামীমা দোলা, নাদিয়া শারমীন প্রমুখ।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক। তাকে হেনস্তা করে মামলা দিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থামিয়ে দিতে চায়। আজকে রোজিনার মুক্তির দাবিতে সারাদেশের সাংবাদিকরা এক হয়েছেন। এজন্য প্রথম আলো পরিবার কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, এই মামলার কোনো মেরিট নেই। আমরা আজকের মধ্যেই এই মামলা প্রত্যাহার চাই। সরকার চাইলে সেটা করতে পারে। আমরা রোজিনার মুক্তি চাই।

ডিআরইউ সভাপতি মোরসালিন নোমানি বলেন, রোজিনাকাণ্ডে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অরুচিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এই বক্তব্য প্রত্যাহার চাই। আমরা আরও দেখেছি- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি করেছে। এটা হাস্যকর। যারা রোজিনার ওপর হামলা করেছে তারাই আবার তদন্ত করবে, আমরা এটা মানি না। এই তদন্ত কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের হত্যাচেষ্টায় তার পরিবার, তার কর্মস্থল না করলেও ডিআরইউ হত্যাচেষ্টা মামলা করবে। তিনি বলেন, কাল যদি রোজিনাকে মুক্তি না দেওয়া হয় আমরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একত্রিত হয়ে আদালত অভিমুখে যাত্রা করবো।  আমরা রোজিনাকে মুক্ত করেই ঘরে ফিরব।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, আমরা পেশাদার সাংবাদিক। আমরা রাস্তায় আন্দোলন করতে চাই না। দ্রুত রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই। সমাবেশ চলাকালে সাংবাদিকরা ‘আমার বোন নির্যাতিত কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই’ স্লোগান দেন।

রোজিনার মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ : দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বুধবার (১৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ দাবি জানান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাবেক এমপি ঊষাতন তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত। বিবৃতিতে রোজিনা ইসলামের আশু মুক্তির দাবি জানিয়ে তারা বলেন, জোরপূর্বক মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে তাকে কারাগারে প্রেরণ সাংবাদিকদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ এবং এ ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তির অন্তরায়। এ সাংবাদিককে হেনস্তার বিরুদ্ধে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।

উদ্বেগ জানালো জাতিসংঘ : প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১৮ মে) জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিককে হয়রানি ও গ্রেপ্তার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনার বিষয়টি জাতিসংঘের নজরে এসেছে। এটি স্পষ্টতই উদ্বেগের বিষয়।

জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশে যে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে নিয়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবর আমাদের নজরে এসেছে। অবশ্যই আমরা নজর রাখছি। ’

কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, বিষয়টিতে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট।  সাংবাদিকদের কোনোভাবেই হয়রানি বা শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সেটা বাংলাদেশ কিংবা পৃথিবীর যেকোনো জায়গাই হোক না কেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য- মেনন : প্রথম আলোর জেষ্ঠ নারী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন, নিগ্রহ ও মামলার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। বুধবার (১৯ মে) ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। এসময় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ের কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও কারাগারে প্রেরণের নিন্দা জানান তিনি।

মেনন বলেন, সরকারের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় ডকুমেন্ট বা ফাইল কোনো একান্ত সচিবের টেবিলে অরক্ষিত অবস্থায় পরে থাকে না। এটা হয়ে থাকলে সেটা বরং মন্ত্রণালয়েরই অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা। মন্ত্রী প্রকারান্তরে দেশে দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী-আমলাদের যে অশুভ আঁতাত গড়ে উঠেছে তার পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। অথচ দেশবাসী জানে এই করোনাকালে সরকারী অর্থ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কি পরিমাণ দুর্নীতি আর লুটপাট হয়েছে। আর রোজিনা ইসলাম সেই সত্যকে তার অনুসন্ধিৎসু রিপোর্টের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন। আর এ কারণেই তাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আক্রোশের শিকারে পরিনত হতে হয়েছে।

মেনন সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার অক্ষুণ রাখতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যে সকল আমলা-কর্মচারীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে তাদেরও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঐ আমলাদের দিয়ে গঠিত তদন্তকমিটি ও তার টার্মস এ্যান্ড রেফারেন্সও অগ্রহণযোগ্য।

চার দফা দাবি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের : রোজিনা ইসলামকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে শাহবাগ থানার পুলিশ। শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন

রোজিনা ইসলামকে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে শাহবাগ থানার পুলিশ। শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেনছবি: প্রথম আলো

 প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তিসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায়। নেটওয়ার্কের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বিবৃতিটি পাঠিয়েছেন। বিবৃতিতে নেটওয়ার্কের ১০০ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্য তিনটি দাবি হলো—রোজিনাকে যাঁরা অন্যায়ভাবে আটকে রেখে নির্যাতন ও পেশাগত কাজে বাধা দিয়েছেন, তাঁদের বিচার করা; অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সার্বিকভাবে সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বাধাস্বরূপ দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন ১৯২৩ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বাতিল করা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।

বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তব্যরত অবস্থায় অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনাকে গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আদালতে নেয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। এই পুরো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ক্ষুব্ধ।

অভিনয় শিল্পীদের উদ্বেগ : প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় এবার প্রতিবাদ জানালেন ঢালিউড কিংখান খ্যাত অভিনেতা শাকিব খান। বুধবার তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছেন। দেশের স্বার্থে সৎ সাংবাদিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে এমন ঘটনায় বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নিয়েও তিনি চিন্তিত।সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এমন ঘটনা নজরে এসেছে বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় তারকার। শাকিব খান লিখেছেন, ‘দুদিন ধরে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের কয়েকটি স্থিরচিত্র দেখছি আর বিস্মিত হচ্ছি। দেশ ও বিশ্ব গণমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে তৈরি প্রতিবেদনগুলো পড়ছি আর ভাবছি, আমার সোনার বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে!’

সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ও নাট্য অঙ্গনের অনেকেই। এই প্রসঙ্গে শাকিব খান লিখেছেন, ‘সুসাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা ইসলাম যেভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তা মোটেও কাম্য নয়। এতে করে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে রোজিনা ইসলাম যেন শতভাগ ন্যায়বিচার পান, সেই কামনা করছি।’

টেলিভিশনের ১৫টি সংগঠন ছাড়াও রোজিনার মুক্তি ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি চেয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ চারু শিল্পী সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ আরও অনেক সংগঠন আলাদা বিবৃতি দিয়েছে।