যুবলীগে বিতাড়িত ওমর ফারুক চৌধুরী !

382
0

যুবলীগের প্রতাপশালী চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। হঠাৎ করেই দলের ভেতরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাকে বাদ দিয়ে চলছে সবকিছুই। সম্প্রতি ক্যাসিনো, জুয়া ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পরেই দৃশ্যপটের এই আমূল পরিবর্তন।

যুবলীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসসহ দলীয় কোন কর্মসূচিতে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোন ভূমিকা নেই। এমনকি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভাতেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সংগঠনে তিনি অনেকটা ‘ওএসডি’ অবস্থায় আছেন। আর এর সবকিছুই হয়েছে যুবলীগের অভিভাবক, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাতেই।

জানা গেছে, দলীয় কার্যক্রমে অনুপস্থিত ওমর ফারুক চৌধুরী ঘনিষ্ঠ কিছু নেতাকর্মী ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। এমনকি এড়িয়ে চলছেন গণমাধ্যমকেও।

যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ নভেম্বর। কংগ্রেসের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে আগামী ২০ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন যুবলীগ নেতারা। ওই বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে উপস্থিত থাকতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে মৌখিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুবলীগের দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দলের হাইকমান্ডের এই মনোভাবে আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান। একসময় যাদের সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক ছিল তারাও এখন তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতির মিটিংয়ে যেতে না পারার অর্থ হলো চেয়ারম্যান এখন ওএসডি। নেত্রীর যে মনোভাব, তিনি বিতর্কিত কাউকেই তার সামনে দেখতে চান না। তাই আসন্ন কংগ্রেসেও যুবলীগ চেয়ারম্যান কোন ভূমিকা রাখতে পারবেন না।

গেল মাসের শেষে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান জোরদার হলে যুবলীগ চেয়ারম্যানের নাম বিভিন্নভাবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে। অভিযানে আটক যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠতা ও ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে তার সম্পৃক্তার চিত্র গোয়ান্দা সংস্থার প্রতিবেদনে পাওয়া যায় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, হাঠাৎ চাপে পড়ে গ্রেফতার এড়াতে সরকারের শীর্ষ মহলে তদবির শুরু করেন তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেশ কয়েকবার গণভবনে প্রবেশ করেন ওমর ফারুক। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফর শেষে গণভবনে ফিরে এলে সেখানে যুবলীগের চেয়ারম্যানকে দেখে তাকে এড়িয়ে গিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেননি। বরং গণভবনে তার উপস্থিতি কিভাবে হলো সেটাও অন্যদের কাছে জানতে চেয়েছেন সরকারপ্রধান।

২০১২ সালে যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই কংগ্রেসে যুবলীগ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ওমর ফারুক চৌধুরী।