যা থাকছে মুজিববর্ষের উদ্বোধনীতে

268
0

আগামী ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে। করোনাভাইরাসের কারণে জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর আকার ছোট পরিসরে করা হবে বলে জানিয়েছে মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

কমিটির সদস্য সচিব কামাল নাসের চৌধুরী বলেন, যেহেতু মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যাপক লোকের সমাগম ঘটবে, সেইসঙ্গে বিদেশি অনেক অতিথি আসবেন। তাই করোনাভাইরাসের কথা চিন্ত করে জনস্বাস্থ্য ও জনগণের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্তভাবে পুনর্বিন্যাস করা হ‌য়ে‌ছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে মুজিববর্ষ উদ্বোধনের মূল অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বিদেশি অতিথিদেরও যোগ দেয়ার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে কোনো অতিথি থাকবে না।

মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানসূচী :

১৭ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পরে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। টুঙ্গীপাড়ায় জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
এদিন জেলা ও উপজেলায় বিভিন্ন দফতর, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। দেশের সব গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। আর রাত আটটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে একযোগে সারাদেশে আতশবাজি ফোঁটানো হবে।

এছাড়া পুরো মুজিববর্ষে দলের পক্ষে থেকে বৃক্ষরোপণ। গৃহহীনদের ঘর দেয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন করা হবে বছর জুড়ে। এছাড়া দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার করা হবে। এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জনসমাগমের কথা ভেবে করোনাভাইরাসের জন্য জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। তবে মুজিববর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন নির্ধারিত দিন ২২ ও ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের উপর ভাষণ দেবেন।

সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিততে কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।