মেলায় ৪ দিনে ১৩৪৬ কোটি টাকা কর আদায়

339
0

রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে সপ্তাহব্যাপী ‘জাতীয় আয়কর মেলা ২০১৯’। মেলার চতুর্থ দিন শেষে সারাদেশব্যাপী মোট আয়কর আদায় হয়েছে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ টাকা। আর এই চারদিনে সারাদেশে মেলা থেকে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৪৬ কোটি ৮০ রাখ ২৫ হাজার ৫১২ টাকা। যেখানে গতবছর মেলার চতুর্থ দিন শেষে কর আদায় হয়েছিল ১ হাজার ২শ ৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সারাদেশে আটটি বিভাগ, ৫৬টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের আয়কর মেলা।

দেশের সবচেয়ে বড় আয়কর মেলা হচ্ছে রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে।

জানা যায়, মেলায় প্রথম দিনে মোট আয়কর সংগ্রহ হয়েছিল ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় দিনে হয়েছিল ৪৭৯ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ টাকা। তৃতীয় দিনে আদায় হয়েছিল ২৬২ কোটি ২ লাখ ৯২ হাজার ২৫১ টাকা। এছাড়া, চতুর্থ দিনে সারাদেশে আইকর মেলা থেকে সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৯২ হাজার ৫২৫ জন। আর এই চারদিনে মেলা থেকে মোট সেবা নিয়েছেন ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৭ জন। এরমধ্যে রবিবার রিটার্ন দাখিল করেছেন ৯২ হাজার ৯১৬ জন। আর এই চারদিনে মেলায় মোট রিটার্ন দাখিল করেছেন ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৫ জন। চারদিনে মেলা থেকে নতুন টিআইএন নিবন্ধন করেছেন ১৬ হাজার ৫৪১ জন।

আয়কর মেলা নিয়ে করদাতাদের মধ্যে প্রতিবছরই ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। এবার এর ব্যতিক্রম হয়নি। রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেও আয়কর মেলায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের কর মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশে করদাতারা তাদের রিটার্ন দাখির করছেন। করদাতারা কেউ রিটার্ন জমা দিয়েছেন, কেউ কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিয়েছেন। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত।

মেলা সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এবারের বাজেটে রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তার জন্য নিজেরাসহ অন্যদেরকে মোটিভেট করছি। যারা কর নেটের আওতার বাইরে আছেন তাদেরকে কর নেটের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কর আহরণে আমূল পরিবর্তন হবে।

এবারের আয়কর মেলার পরিধি গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি করে আয়কর রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি ই-টিআইন গ্রহণ, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং এবং ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে করদাতারা রকেট, নগদ, বিকাশ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আয়কর জমা দিতে পারছেন বলে জানিয়েছে এনবিআর।