মূলধন ঘাটতিতে পদ্মা

0
482

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলছে। এতে খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশনও রাখতে হচ্ছে। তাতে ব্যাংকগুলো মূলধন ঘাটতিতে পড়ছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

গত বছরের ডিসেম্বর শেষে উচ্চ খেলাপিঋণের কারণে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণে (সিএআর) ব্যর্থ হয়েছে ১২ ব্যাংক। ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে পদ্মা ব্যাংক ৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

ব্যাংকটি ফারমার্স ব্যাংক থেকে পদ্মা ব্যাংক নাম ধারণ করার পর আশা করা হয়েছিল আমানত আরও বাড়বে। ব্যাংকটি থেকে অব্যাহতভাবে আমানত তুলে নেয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে প্রায় আটশত কোটি টাকা মূলধন সরবারহ করেছিল। সে সময় মনে করা হয়েছিল নাম পরিবর্তন ও ব্যাংকের মালিকানায় সরকার এলে গ্রাহকরা নতুন করে ব্যাংকটির প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মূলধন ঘাটতিতে সরকারি ৫ ব্যাংকেরই ১০ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিক সেপ্টেম্বর শেষে ১২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।

আগের প্রান্তিকে এবি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকলেও এ প্রান্তিকে শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি মূলধনের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে (রেগুলেটরি ফরবেয়ারেন্স) নিয়ন্ত্রক সহনশীলতার সুবিধা নিয়ে মূলধন সংরক্ষন করেছে। তবে এ প্রান্তিকে নতুন করে বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক ৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে।

তথ্য অনযায়ী, মূলধন ঘাটতিতে থাকা মোট ১২ টি ব্যাংকের মধ্যে ৫টি সরকারি ৪টি বেসরকারি ১টি বিদেশি এবং ২দুইটি বিশেষায়ীত ব্যাংক। এদের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোতি ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ডিসেম্বর শেষে মোট ১০ হাজার ৭৭৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূলধন ঘাটতিতে সরকারি খাতের ৫টি ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি বিশেষায়ীত ব্যাংকগুলোতে ১০ হাজার ১৯৯ কোটি এবং বিদেশী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি প্রায় ৬২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১০ লাখ ১১ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। অর্থাৎ মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

মূলত গত বছরের ব্যাপক হারে পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়ায় প্রথমবারের মতো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় এবার সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমেছে। গত তিনমাস আগে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর আগে গত জুন শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।