বেসরকারি ঋণের ধারাবাহিক অবনমন

307
0

বিগত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি বেসরকারি খাতে। চলতি বছরের অক্টোবরে এসে এখাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এর আগে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। পাশাপাশি ঋণের চাহিদাও কমেছে বলে ধারণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের। বেসরকারি খাতে ঋণ যে হারে বাড়ছে, তা মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। এত কম হারে বাড়লে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত অর্থবছরে ছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগের অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

সংশ্নিষ্টরা জানান, আটকে থাকা ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমেছে। তারল্য সংকটের কারণে ঋণ তেমন বাড়াতে পারছে না। মেয়াদি দুই অঙ্কের সুদ দিয়েও অনেক ব্যাংক এখন কাঙ্ক্ষিত হারে আমানত পাচ্ছে না। এর প্রভাবে ঋণের সুদহার না কমে উল্টো বাড়ছে। আবার সরকারও এখন ব্যাংক থেকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে। এসবের প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছে।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে খেলাপি ঋণ ২২ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা বেড়ে গত সেপ্টেম্বর শেষে এক লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকায় ঠেকেছে। নানা উপায়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের মধ্যে এভাবে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্যাংকগুলো। ফলে অনেক ভেবেচিন্তে ঋণ দিচ্ছেন ব্যাংকাররা। এর মধ্যে আবার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে সরকার।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিট ৪২ হাজার ৬০৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। পুরো অর্থবছর যেখানে মাত্র ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। আশানুরূপ রাজস্ব আয় না হওয়া এবং সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার আগের মতো আর ঋণ না পাওয়ায় ব্যাংক খাতের ওপর ঋণনির্ভরতা বেড়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সার্বিকভাবে আমদানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ ছাড়া দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের অন্যতম কাঁচামাল তুলা আমদানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বস্ত্র ও তৈরি পোশাকসহ কিছু খাতের কাঁচামাল আমদানি কমেছে। অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। রাজস্ব আয়ও খুব কম হারে বাড়ছে। এসব পরিসংখ্যান ব্যবসা-বাণিজ্যের ধীরগতির লক্ষণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।