বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩২ জনের মৃত্যু

0
255


দুই লঞ্চের চালকই ছিলেন বেপরোয়া

শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে মুন্সীগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ছোট্ট দোতালা লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয় ময়ূর-২ নামে আরেকটি লঞ্চ

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ফরাশগঞ্জ-শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড নামে একটি লঞ্চ ডুবে গেছে। আজ (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা ডক এরিয়ার পাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনার পেছনে দুই লঞ্চের চালকেরই বেপরোয়া মনোভাব কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা, দুর্ঘটনার অনেকক্ষণ আগে থেকেই লঞ্চ দুটি খুব কাছাকাছি চলছিল এবং তাদের গতিও ছিল অনেক বেশি। ফলে ঘাটে ভেড়ার জন্য মনির্ংবার্ডকে অতিক্রম করতে গিয়ে ময়ূরী-২ সরাসরি উঠে যায় লঞ্চটির ওপর। মুহুর্তেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বুড়িগঙ্গার শ্যামবাজার এলাকায় ওই দুর্ঘটনায় ৩২ জনের করুণ মৃত্যু ঘটে। যাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি ঘাট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ছোট লঞ্চ এম এল মর্নিংবার্ড ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। সেটির সদরঘাটের ১৩ নম্বর পন্টুনে ভেড়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভিড়িয়ে রাখা লঞ্চ এম ভি ময়ূরী-২ লালকুঠি ঘাটে আসছিল যাত্রী নেয়ার জন্য। দুটি লঞ্চের পন্টুনই পাশাপাশি, শুধু মাঝখানে একটা খেয়া ঘাট। কিন্তু শ্যামবাজার এলাকায় ময়ূরীর ধাক্কায় মর্নিংবার্ড লঞ্চটি দুই ভাগ হয়ে পুরোপুরি ডুবে যায়। তবে ময়ূরীর তেমন ক্ষতি হয়নি। দুর্ঘটনার পর চালক ও সহকারীরা পালিয়ে যায়। লঞ্চটিকে আটক করেছে নৌপুলিশ।
এতো কাছাকাছি দ্রুত গতিতে লঞ্চ চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করছেন অনেকে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে বিআইডব্লিউটিএর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ভিডিওটিতে দেখা যায়, মর্নিংবার্ডকে দ্রুত গতিতে অতিক্রম করতে গিয়ে ময়ূরী-২ ধাক্কা দেয়। আবার খেয়াল করলে এও দেখা যায়, মর্নিংবার্ডের গতিও সে সময় অনেক ছিল। অর্থাৎ সেটিও পাল্লা দিয়ে আগে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। কোনো চালকই নিয়মের তোয়াক্কা করেননি বলে মনে হচ্ছে।
তবে বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষের (যা-প) সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই আমরা চালকদের খুঁজে পাচ্ছি না। বিষয়টি তদন্তের পর জানা যাবে।
সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ময়ুরী লঞ্চের মালিকের নাম মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ। তার আরো কয়েকটি লঞ্চ রয়েছে। আর জয়নাল আবেদীন লিলু ও আবদুল গফুর যৌথভাবে মর্নিংবার্ড লঞ্চের মালিক। দুটি লঞ্চেরই কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। মর্নিংবার্ডের সুকানির নাম রোস্তম আলী। ময়ূরীর মাস্টার আবুল বাসার মোল্লা। তবে ওই সময় তারা লঞ্চগুলো চালাচ্ছিলেন কি না- তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ তাদের খুঁজছে।

এদিকে, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করতে নারায়নগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় রওনা দিলেও সেটি বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর (পোস্তগোলা) কাছে এসে আটকে যায়। বর্ষায় নদীতে পানির উচ্চতা বেশি থাকায় জাহাজটি সেতুর নিচ দিয়ে আসতে পারেনি বলে জানান বিআইডব্লিটিএর উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি জানান, এখন দেশীয় পদ্ধতিতে লঞ্চটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।