প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির আড়ালে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা

116
0

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উন্নয়নের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাদের প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ ও সমবায় সমিতির নামে অবৈধ মাইক্রো ক্রেডিট বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতি একটি স্বেচ্ছাসেবী সমাজ সেবামূলক সংগঠন। যার রেজিঃ নং-ঢ-৯৬৯৪। তবে সমিতির সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম তাদের নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও তা করছেন না। এছাড়াও কার্যালয় হিসেবে দেখানো ঠিকানায় সরজমিনে গিয়েও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি সমিতির কোনো কর্মকাণ্ডের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কর্মকাণ্ড। আর এ কাজটুকু তারা করতেন শুধু সরকারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমপিও অনুমোদনের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সূত্রে আরো জানা গেছে, শুধু ঢাকা জেলাতেই এ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকলেও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সারা দেশেই সমিতির কমিটির নামে চাঁদা তুলেছে তারা। এছাড়াও এ সংগঠনটির সভাপতি নরেশ চন্দ্র দাস কামারপাড়া এনসি সংস্কৃত কলেজ, উদয়ন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ও সেবা সংসস্থা, উদয়ন ব্যবসায়িক সমবায় সমিতি লিমিটেড, কিরন যতীণ বিশেষ শিক্ষা বিদ্যালয়, উত্তর হাট বমুনী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামও দুটি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। একটি তার নিজের নামে নজরুল ইসলাম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় এবং আরেকটি তার বাবার নামে ইয়াকুব আলী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য করে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
যশোরের ঝিকরগাঝা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক পুনরবাসন কেন্দ্রের প্রধান শিক মো. আমিরুল কবির অভিযোগ করে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের এমপিও অনুমোদনের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নেয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। টাকা নেয়ার প্রায় এক বছর হলেও এখন পর্যন্ত এমপিও হয়নি। এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও ব্যাবস্থাপনা) সুলতানা সাঈদা সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ্যে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।