পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলা-২০১৯ উদ্বোধন

256
0

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পিকেএসএফ’র বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‌উন্নয়ন মেলা ২০১৯’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের সব অঞ্চল বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সহযোগী সংস্থার উন্নয়নকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের কল্যাণ, দারিদ্র নিরসন ও কৃষির উন্নয়ন এবং মানব মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা স্মারক, প্রশংসাপত্র ও ক্রেস্ট বেগম মতিয়া চৌধুরীর হাতে তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নেই সবসময় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আরো বলেন, তার সরকার বরাবর দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারের বহুমুখী কর্মতৎপরতার ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালে ৪১.৫ শতাংশ থেকে বর্তমানে ২১ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। সরকারের চলতি মেয়াদের মধ্যেই দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তাঁর সরকার পিকেএসএফ-এর কার্যক্রমকে ক্ষুদ্রঋণের গণ্ডি থেকে বের করে সামগ্রিক উন্নয়নের পথে পরিচালিত করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পিকেএসএফ তার সহযোগী সংস্থাগুলোর সদস্যদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের জন্য যে উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে, তা আগামীতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে পিকেএসএফ-এর প্রচেষ্টা সামগ্রিকভাবে সফল হয়েছে। পিকেএসএফের প্রতিষ্ঠালগ্নে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৮.৮ শতাংশ, যা ২০১৮ সালে ২১.৮ শতাংশে নেমে এসেছে এবং এই অভাবনীয় সফলতায় পিকেএসএফ-এর অবদান অসামান্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্যের সম্প্রসারণে আয়োজিত পিকেএসএফ মেলার সফলতা কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পিকেএসএফ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, রূপকল্প ২০২১-সহ সরকারি বিভিন্ন নীতিমালার সাথে সমন্বয় রেখে উপযুক্ত অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানে বিবর্তিত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পিকেএসএফ ১৮ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে বলে তিনি জানান।

পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, পিকেএসএফ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনসহ সরকারের অন্যান্য দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়ায় সরকারের সহায়ক হিসেবে কাজ করছে এবং তা অব্যহত থাকবে। পিকেএসএফ-এর ভবিষ্যৎ দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমে সরকারের সার্বিক সহায়তা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পিকেএসএফ আয়োজিত এই মেলা ১৪ হতে ২০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চলবে। এই মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও তথ্য প্রযুক্তি এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৩০টি প্রতিষ্ঠানের ১৯০টি স্টল এ মেলায় স্থান পেয়েছে।