দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো নারীবান্ধব নয়

349
0

‘বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও নারীবান্ধব নয়। হাসপাতাল ও চিকিৎসকের চেম্বারেও রোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয় না। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কাগজে-কলমে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা ভিন্ন। আর এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানসিকতার পরিবর্তন খুবই জরুরি।’

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা.মিল্টন হলে ‘স্বাস্থ্যসেবায় নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক ক্যাফে সায়েন্টিফিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

সভায় মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউ’র পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ শিউলি চৌধুরী বলেন, ‘মেডিকেল শিক্ষায় দেখা যায় মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে অথচ এখনো সেভাবে পরিবেশ গড়ে তোলা হয়নি। এমন অবস্থায় পরিবার থেকেই মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

আইসিডিডিআরবি’র চিকিৎসক ডা. সাদিকা আক্তার বলেন, ‘একটি গবেষণায় দেখা গেছে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ চলাচল থাকে। সেখানে কোনও পর্দা বা এমন কোনও ব্যবস্থা ছিল না, যা দিয়ে একজন মা নিজেকে আড়াল করতে পারেন। একজন মা তখন তার শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে গিয়ে বিব্রতবোধ করেন। এ ধরনের সমস্যা বহু হাসপাতালেই রয়েছে। আবার দেখা যায় নারী—পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট বা বাথরুম ব্যবস্থার কথা ফলাওভাবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় সেখানে নারীদের জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেই, নতুবা সেটা নারীদের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক ব্যাধি শাখার এপিডেমিওলজিস্ট ডা. ইশরাত জাহান বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এখনও নারীদের কাজের পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ এটা বলা যাবে না। আবার বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় একই কক্ষে একাধিক মেডিকেল অফিসার আছেন। কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় প্রাইভেট চেম্বারে একজন চিকিৎসকের কক্ষেও একাধিক রোগী থাকেন। এতে দেখা যায় রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নষ্ট হচ্ছে। এমন অবস্থার উত্তরণ জরুরি।’

আইসিডিডিআর’বির শেয়ার প্রকল্পের পরিচালক ডা. ইকবাল আনোয়ার বলেন, ‘সবখানেই কিছু বৈষম্য আছে। আমাদের স্বাস্থ্যখাতেও আছে। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। না হলে এই ধরনের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা খুবই কঠিন। তবে আমি এখনই হতাশ হতে রাজী না। আশা করছি খুব দ্রুতই এমন পরিস্থিতি পাল্টাবে।’

এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তারা নারীদের কাজের পরিবেশ ও সেখানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেন। পাশাপাশি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়। এছাড়াও যথাযথ গবেষণা করে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মস্থলে নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা করার কথাও বলেন।