ডিএসইতে লেনদেন ১৫শ কোটি টাকা

44
0

দেশের শেয়ারবাজার গত একমাস ধরে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ঈদের আগে ও পরে মিলে টানা আট কার্যদিবস ধরে শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী অব্যাহত রয়েছে। মূল্য সূচক টানা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি। গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইতে লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকার ছাড়িয়েছে যা প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। শেয়ারবাজার এমন চাঙ্গা হয়ে ওঠায় বেশ খুশি রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এদিকে বাজার সংশ্লিস্টরা, বলছেন, কয়েকটি কারণে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্যতম আইপিওকেন্দ্রিক বিনিয়োগ বাড়া এবং অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে কালো টাকা বিনিয়োগ হওয়া। তারা বলছেন, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন নিয়ম অনুযায়ী আইপিও আবেদন করতে হলে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। আগামী ৩০ মে থেকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আইপিও আবেদন শুরু হবে। এর আগেই ১৯ মে নূন্যতম ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগের শর্তপূরণ করতে হবে। এ কারণে আইপিও আবেদনের জন্য অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন পরেই অর্থবছর শেষ হয়ে যাবে। এ কারণে অপ্রদর্শিত অর্থের একটি অংশ এখন শেয়ারবাজার বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। এবিষয়ে বিনিয়োগকারী ফিরোজ বলেন, আমরা সাধারন বিনিয়োগকারীরা দেখলাম ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ অনেক আকর্ষণীয় এবং ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ইপিএস অনেক ভাল, তাই ব্যাংকের শেয়ারে আমাদের এত আগ্রহ। বিনিয়োগকারী হাসান মাহমুদ বলেন ব্যাংক আন্ডার ভ্যালুড, এখান থেকে অনেক বাড়ার সুযোগ আছে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, কয়েকটি কারণে বাজার এখন ভালো অবস্থায় রয়েছে। সামনে আইপিও আবেদন আসছে। এই আইপিও আবেদনের জন্য কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকতে হবে। সুতরাং যারা আইপিও করেন তারা এখন বিনিয়োগ করছেন। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। অর্থবছর শেষ হয়ে আসছে, এ কারণে অপ্রদর্শিত অর্থের একটি অংশও এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হচ্ছে। সবকিছু মিলে এখন শেয়ারবাজার ভালো অবস্থানে রয়েছে।
গতকাল লেনদেনের শুরুতে প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে লেনদেনের প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা কমে। তবে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সূচক ঊর্ধ্বমুখীই থাকে। এর ফলে ঈদের আগে ও পরে মিলে টানা আট কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকল শেয়ারবাজার।
মূল্য সূচক টানা বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেশ বেড়েছে। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে টানা ১১ কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হলো। আর ২৫ জানুয়ারির পর বাজারটিতে দেড় হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হল। দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৮৪০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিকে সবকটি মূল্য সূচকের উত্থান হলেও ডিএসইতে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ডিএসইতে দিনভর লেনদেনে অংশ নেয়া ১৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭৫টির এবং ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনেদেন বেড়েছে ১১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির ৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫৩ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাইফ পাওয়ার।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- প্রাইম ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ন্যাশনাল ফিড, সিটি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স এবং এসএস স্টিল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ৩০০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৬টির এবং ২৯টির