ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিষয়ে প্রতিবেদন ৫ দিনে

196
0

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাত ও বন্ধের বিষয়ে দ্রুতগতিতে সিদ্বান্ত নেয়ার পরিকল্পনা করেছে ডিএসই। এজন্য ডিএসইর গঠিত কমিটি আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার ডিএসইর জরুরি পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসইর আরএডি বিভাগের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি আগামী ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। এছাড়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যাংক হিসাবসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গায় চিঠি দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যাওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সকল পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ এবং তার স্ত্রীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাবও জব্দ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আর এদিকে শেয়ার ও অর্থ খুঁইয়ে বিপাকে পড়েছেন সিকিউরিটিজ হাউজটির বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় পাওনা অর্থ বকেয়া রেখে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা গত ২৫ জুন পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া সিকিউরিটিজ হাউজটির পরিচালকেরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য বিষয়টি ইমিগ্রেশনকে জানিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ এবং তার পরিবার গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোর ৫টার দিকে বাসা থেকে পালিয়েছেন। তবে একটি বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদ উল্লাহ দেশের মধ্যে অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনী চেষ্টা করছে।

প্রসঙ্গত, বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকে বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও সিডিবিএল কর্মকর্তাদের যোগসাজসের অভিযোগ উঠেছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকে বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ আত্মসাতের যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে সিডিবিএল কর্মকর্তাদের অবশ্যই যোগসাজস রয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যোগসাজস থাকার কারণেই সেন্ট্রাল ডিপোজিটারি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) থেকে এমন কাণ্ডের পর কোন এসএমএস দেয়া হয়নি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উঠালেই গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক থেকে মোবাইলে বার্তা পেয়ে থাকেন। ঠিক তেমনই বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রি করলেই বিনিয়োগকারীদের বার্তা দিয়ে থাকে সিডিবিএল। অথচ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষের শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের সিডিবিএল কোন বার্তাই দেয়নি।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করল ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, কিন্তু সিডিবিএল থেকে এসএমএস দেয়া হলো না- এ বিষয়টি অবশ্যই সন্দেহজনক এবং খুবই উদ্বেগজনক। সিডিবিএল থেকে এসএমএস না পাওয়ার কারণেই গ্রাহকরা তাদের শেয়ার হারিয়েছেন। এর দায়ভার কোনভাবেই সিডিবিএল এড়াতে পারে না।

তাই শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথম ঘটে যাওয়া এ ধরণের অনৈতিক ঘটনা তদন্তে সিডিবিএলের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।