কৃষি শুমারির সঙ্গে দ্বিমত কৃষি ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের

246
0

কৃষি নিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শুমারি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বিবিএসের এই শুমারির সঙ্গে তথ্যের ব্যবধানের কথা বলছে কৃষি মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, শুমারিতে ডিম, দুধ, ইলিশ এবং মিঠা পানির মাছের তথ্য নেই। এতবড় একটি কাজ নিখুঁত হবে না স্বীকার করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এসব ক্ষেত্রে আরও নিবিরভাবে সবার কাজ করার আহ্বান জানান।

রোববার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন অডিটরিয়ামে কৃষি শুমারি ২০১৯ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে শুমারির তথ্য নিয়ে এসব আলোচনা হয়।

গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাইব্রিড ধান, টার্কি, মুরগী, হাঁস, ছাদ বাগান, ভাসমান কৃষি, মাসকলাই, ছোলার ডাল চাষ যারা করেন তাদের নিয়ে করা হয়েছে কৃষি শুমারি। শুমারিতে বলা হয়েছে, দেশে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক কোটি ৬৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪টি পরিবার। এক্ষেত্রে শহরে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৫টি পরিবার এবং গ্রামে এক কোটি ৫৯ লাখ ৪৫ হাজার ১১৯টি পরিবার কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত।

শুমারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট পরিবারের (খানা) সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৮০টি। দেশে গরুর সংখ্যা ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫টি। হাঁসের সংখ্যা ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২৯ হাজার ২১০টি এবং মুরগী রয়েছে ১৮ কোটি ৯২ লাখ ৬২ হাজার ৯১০টি।
বিজ্ঞাপন

শুমারিতে মাছ চাষ করে নির্ভরশীল হয়েছেন, ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৫টি, কৃষি মজুরি করে এমন পরিবারের সংখ্যা ৯০ লাখ ৯৫ হাজার ৯৭৭টি, নিজস্ব জমি নেই এমন পরিবার রয়েছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯টি এবং অন্যের কাছ থেকে জমি নিয়েছে এমন পরিবার ৬৭ লাখ ৬৩ হাজার ৪৮৭টি। দেশে টার্কি রয়েছে ১৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪২০টি, মহিষ ৭ লাখ ১৮ হাজার ৪১১টি, ছাগল ১ কোটি ৯২ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি এবং ভেড়া রয়েছে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮টি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিজের জমি নেই এমন পরিবার সবেচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে প্রতি হাজারে ৬৪৮টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। রাজশাহী বিভাগে প্রতি হাজারে ২৪১টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। এছাড়া রংপুর বিভাগে প্রতি হাজারে ৩১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ২৭৫টি, খুলনা বিভাগে ২৬৯টি, মংমনসিংহ বিভাগে ১৬৯টি, সিলেটে বিভাগে ২২১টি এবং বরিশাল বিভাগে প্রতি হাজারে ৯২টি পরিবারের নিজস্ব জমি নেই। তবে প্রকল্প পরিচালক জাফর আহমেদ জানান, নিজস্ব জমি নেই মানে ভূমিহীন নয়। অনেক সময় নিজের নামে জমি না থাকলেও তার বাবা বা দাদার নামে থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে শুমারির তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব রইছুল আলম মন্ডল বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বিশুদ্ধ ডাটা দরকার। বেইজ লাইন না থাকলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিক হয়না। শুমারিতে ডিম, দুধ, ইলিশ এবং মিঠা পানির মাছের তথ্য থাকা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান বলেন,বিবিএসের তথ্যের সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যের কোনো মিল নেই। বিভাজনে হাইব্রীড ধানের কোনো হিসাব নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ছাদ বাগান এখন অনেক জনপ্রিয় একে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ভাসমান কৃষিকে যুক্ত করা হয়নি। মাসকলাই ও ছোলার ডালের তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিসংখ্যানের সাথে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করা উচিত। তাহলে এত বেশি ব্যবধান আর থাকবেনা।

পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এতবড় মহাযজ্ঞ বোধহয় নিখুঁত হওয়ার বিষয় নয়। সংশোধন করার বিষয় রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও নিবিড়ভাবে সবাই কাজ করবে বলে আমি কথা দিচ্ছি। বিবিএসকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশের সকল পরিকল্পনায় ভিত্তি হবে পরিসংখ্যান। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ আগে নাক সিটকালেও এখন আমাদের তথ্য ব্যবহার করছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাঠ পর্যায়ে মূল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ২০১৯ সালের ৯ জুন থেকে ২০ সালের জুন পর্যন্ত সংগ্রহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সম্পদ সচিব রইছউল আলম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো; নাসিরুজ্জামান, বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, ও প্রকল্প পরিচালক জাফর আহমেদ খান।