করোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হারালো উজ্জল নক্ষত্র

387
0

আল্লাহ মালিক কাজেমী। নামটা একটু ব্যতিক্রম। কাজের ক্ষেত্রেও ছিলেন ব্যতিক্রম। ফিজিক্সে পড়েও অনেক অর্থনীতিবীদকে হার মানাতেন। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার হিসাবে কাজ করছেন। আগে ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। ৭৪ বছর বয়সেও তিনি ব্যাংকের জন্য নিরলস কাজ করে গিয়েছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি নক্ষত্র ঝড়ে গেল। বাংলাদেশ ব্যাংক একজন অভিভাবককে হারালো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য তিনি ছিলেন বটবৃক্ষ।

গতকাল শুক্রবার তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে বিকাল ৫টা ৬ মিনিটে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জানান, বিকেল ৫টা ৬ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিবার শোকাবহ। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করছি। সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাজমী স্যারের হার্টের সমস্যায় গত সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে,শারীরিক অন্যান্য জটিলতার সঙ্গে আল্লাহ মালিক কাজমীর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল।

এদিকে আল্লাহ মালিক কাজেমীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুর খবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আল্লাহ মালিক কাজেমী সবশেষ বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দিন আহমদ যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্বে পালন করেন, তখন (২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সালে) তিনি ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। এরপর আল্লাহ মালিক কাজেমী সফলভাবেই তার পেশাগত জীবনের প্রথম পাঠ শেষ করেন। তিনি দেশের ব্যাংকিং খাত, অর্থনীতি নিয়ে ব্যাপক জানা-শোনার কারণে বিশেষ সুনাম অর্জন করেন। ড. ফখরুদ্দিন আহমদ তার মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিশিষ্ট এই ব্যাংকারকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চিন্তা করেন। পরে আল্লাহ মালিক কাজেমীর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড তখন তার নিয়োগ নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়। তবে নানা জটিলনায় নিয়োগ পেতে দেরি হয়।


এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান ড. ফখরুদ্দিন আহমদ। ওই সময়ে গভর্নর ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমদ। ফখরুদ্দিন আহমদ তখন আল্লাহ মালিক কাজেমীর নিয়োগ চূড়ান্ত করেন। এরপর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, বিশ্ব অর্থনীতিসহ অর্থনীতির নানা গতি প্রকৃতি অত্যন্ত দক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে পারতেন তিনি। সূত্র মতে, ড. আতিউর রহমানকে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হয় বর্তমান সরকারের মেয়াদে তখন তাকে ব্যাংকে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সবশেষ আল্লাহ মালিক কাজেমী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যাজেনমেন্ট অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুদ্রানীতি প্রণয়ন থেকে বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তার পরামর্শকে গুরুত্ব দেন গভর্নর।


এদিকে এর আগে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) শেখ ফরিদ উদ্দিন সোয়াদ মারা যান। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ব্যাংকার আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের ছয়জন, রূপালী ব্যাংকের দুজন, দি সিটি ব্যাংকের তিনজন, এনসিসি ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার একজন, উত্তরা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার একজন, জনতা ব্যাংকের তিনজন, ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন, অগ্রণী ব্যাংকের একজন ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দুজন এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন, এক্সিম ব্যাংকের একজন এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কর্মকর্তাও এ তালিকায় রয়েছেন।

#