এলডিসি থেকে উত্তরণ টেকসই করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে

321
0

আগামী দশকে বাংলাদেশসহ ১২ টি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক উন্নয়ন ইতিহাসে এটি একটি বিরল সাফল্যের উদাহরণ। তবে, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতাসহ এ দেশগুলোর উত্তরণ ঘটবে। এক্ষেত্রে, মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সম্প্রদায়কে উত্তরণ হতে যাওয়া এই দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত এলডিসির রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিংয়ে গত শুক্রবার এ মন্তব্য করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-র সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। শনিবার সিপিডির জয়েন্ট ডিরেক্টর অভ্র ভট্টাচার্যের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এলডিসি গ্রুপের সমন্বয় ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাবাব ফাতিমা এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় আফগানিস্তান, লাওস, নেপাল এবং সিয়েরা লিওনের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূতরা বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির (সিডিপি) সচিবালয়ের প্রধান রোল্যান্ড মোলারাস, অফিস অফ দি হাই রিপ্রেজেনটেটিভ লিস্ট ডেভেলপড এন্ড ল্যান্ডলকড কান্ট্রিজের (ওএইচআরএলএলএস) ডেপুটি চিফ সুসানাহ উলফ, এবং সিডিপি সচিবালয়ের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মাথিয়াস ব্রুকনার এ সভায় বক্তব্য রাখেন।

জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটির সদস্য (সিডিপি) সদস্য ড. দেবপ্রিয় উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ হতে যাওয়া দেশগুলো কাঠামোগত দূর্বলতায় ও বিভিন্ন ঝুঁকিতে আছে। এরা অনেকেই ছোট দ্বীপরাষ্ট্র, স্থলবেষ্টিত দেশ, জলবায়ু পরিবর্তনে আক্রান্ত এবং সংঘাত-পরবর্তী সমাজ। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বর্তমানে যে সব বিশেষ আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়ার পর সেগুলো আর তারা পাবে না। এক্ষেত্রে উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য নেতিবাচিক প্রভাব সম্বন্ধে ড. দেবপ্রিয় সভায় অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। এক্ষেত্রে তিনি, শুল্কমুক্ত এবং কোটা-মুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার, রেয়াতি ও মিশ্র অর্থায়ন সুবিধা, মেধাস্বত্ব অধিকারের প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলদেশসহ এলডিসি-উত্তর দেশগুলোর জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রণোদনা প্যাকেজ অতিসত্বর নির্ধারণের জন্য তাগিদ দেন ড. দেবপ্রিয়। এই প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়নের জন্য রাজনৈতিক ও টেকনিক্যাল প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হওয়া প্রয়োজন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের (এলডিসি পাঁচ) মাধ্যমে এ ধরণের প্যাকেজ অনুমোদন দেয়া যেতে পারে, বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা তার সমাপনী বক্তব্যে ২০২০ সালের এপ্রিলের শেষের দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘এলডিসি পাঁচ’ এর আঞ্চলিক প্রস্তুতি সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার জন্য এলডিসি সদস্য এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান।