ইউনিলিভার -আইবিএ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

234
0

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাক্ষরিত এ সমঝোতা স্মারকে টেকসই উন্নয়নের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান দু’টি এমন একটি বিষয়ে কাজ করতে যাচ্ছে, ইউনিলিভার যেটাতে সারা বিশ্বেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা, নতুন আইডিয়া সৃষ্টি এবং উদ্ভাবনের পথ সুগম করাই এই সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য।

‘ইউনিলিভার টেকসই জীবনমান পরিকল্পনা’ সামগ্রিকভাবে তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। লক্ষ্য তিনটি হলো : স্বাস্থ্য ও সুস্থতার উন্নতি করা, পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস করে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং লাখো মানুষের জীবিকার সুযোগ তৈরি করা। পরিবেশগত ভূমিকা থেকে আমাদের প্রবৃদ্ধিকে আলাদা করার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারের জন্য যাত্রা শুরু করেছে ‘ইউনিলিভার টেকসই জীবনমান পরিকল্পনা’।

এই চুক্তির ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা বিভিন্ন লাইভ প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাবে, যেখানে তারা টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিভিন্ন খাতে অবদান রাখার সুযোগ পাবে। এছাড়া ‘টেকসই জীবনমান পরিকল্পনা’র প্রধান তিনটি লক্ষ্য অর্জনে ইউনিলিভার বিশ্বব্যাপী যেসব টেকসই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলোতেও তারা নিজেদেরকে মেলে ধরার সুযোগ পাবেন।

নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সংস্কৃতি বিকাশ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন সুযোগ প্রদানের কারণে টানা ৮ বছর ধরে সারা বাংলাদেশের স্নাতক শিক্ষার্থীদের কাছে ‘এমপ্লয়ার অব চয়েজ’ উপাধিতে ভূষিত হয়ে আসছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

শিক্ষা ও গবেষণার মতো একাডেমিক ধারায় সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্পার্কস ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম, ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম, বিজমায়েস্ত্রোস, ইউনিলিভার ফিউচার লিডারস প্রোগ্রাম ইত্যাদি নানান কার্যক্রম পরিচালনা থেকে শুরু করে অতিথি শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পর্যন্ত নিয়ে থাকে ইউনিলিভার।

বছরের পর বছর ধরে ইউনিলিভার বাংলাদেশের সেরা কিছু প্রতিভা সরবরাহ করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট। হয়ে দাড়িয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান দু’টি ভবিষ্যতেও দেশের প্রতিভা বিকাশে অবদান রেখে যাবে। এর ফলে ইউনিলিভার বাংলাদেশ যেমন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা দক্ষতা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে

উপকৃত হবে, ঠিক তেমনিভাবে শিক্ষার্থীরাও বাজার এবং ব্যবসা ক্ষেত্রে রদবদলকারী ইউনিলিভারের বৈশ্বিক ও স্থানীয় নেতাদের সাথে মত-বিনিময় করে শেখার সুযোগ পাবে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সাক্ষি হান্ডা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকটিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় ইউনিলিভার বাংলাদেশের হোমকেয়ার অ্যান্ড ফুড অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্ট ডিরেক্টর তানজিম ফেরদৌস আলম, আইবিএ’র এমবিএ প্রোগ্রামের অধ্যাপক ও সমন্বয়ক ড. মো. মোহিউদ্দিনসহ ইউনিলিভার এবং আইবিএ’র উর্ধ্বতন ব্যাক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সাক্ষি হান্ডা বলেন, ‘বেটার বিজনেস, এ বেটার ওয়ার্ল্ড, এ বেটার ইউ’ তৈরিতে কর্মীদের প্রতি ইউনিলিভারের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির সাথে মিল রেখে এই পার্টনারশিপটি করা হয়েছে। ‘সাসটেনিবিলিটি’র মতো বিশ্ব বাণিজ্যের একটি ক্রিটিক্যাল ফ্যাক্টরে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ সরবরাহের মাধ্যমে ইউনিলিভার যে দেশের ভবিষ্যত মেধা বিকাশে সক্ষম, সে বিষয়টিই এখানে নিশ্চিত করা হচ্ছে।