আই ভ্রুতে অনন্যা

320
0

সাজের বড় অংশজুড়ে থাকে চোখ। আর চোখের সাজ তখনই পূর্ণতা পায়, যদি ভ্রæ সুন্দর আকারের হয়। সাজার প্রসঙ্গ এলেই সবাই ভাবে, ভ্রæ একভাবে তুললেই হলো। বিষয়টা কিন্তু তেমন নয়। বরং খুব সচেতনভাবে, সময় নিয়ে এবং ভালো জায়গা থেকে ভ্রæ প্যাক করা উচিত। আই ভ্রæ‘র নানা দিক নিয়ে নানা তথ্য দিয়েছেন ওমেন্স ওয়ার্ল্ড বিউটি পার্লারের প্রধান কণা আলম।

ফ্যাশন-সচেতন তরুণীরা স্টাইলের একঘেয়েমি ভাব কাটানোর জন্য হরহামেশাই চুলের কাটে ও সাজের ধরনে পরিবর্তন আনেন। তবে শুধু চুলের কাটেই কেন? চেহারায় নতুনত্ব আনতে চাইলে চোখের ভ্রæর আকৃতিতেও পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই মুখের সঙ্গে মানানসই হতে হবে। ভ্রæ প্যাকের ওপরই চেহারার ভাব পরিবর্তন হয়ে যায়। হয়তো কখনো রাগী লাগে, কখনো বা লাগে বেশি কমনীয়।

একসময় চিকন ভ্রæ রাখার প্রবণতা দেখা গেলেও, এখন আবার সেই মোটা ভ্রæ রাখার চল ফিরে এসেছে। সব যুগে এবং সব কালেই মোটা ও ঘন ভ্রæর একটা আলাদা আবেদন ছিল, যা এখনো আছে। তবে এটাও ঠিক যে ইদানীং ভ্রæর আকৃতিটা একটু মোটা রাখার ঝোঁক তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। ভ্রæর আকৃতির হালকা রকমফের করলে পুরো চেহারার আদলই পাল্টে যেতে পারে। তাই ভ্রæ মোটা রাখলেও তা কোন আকৃতিতে প্লাক করলে সুন্দর দেখাবে, সেটা জেনে নেওয়া ভালো।

লম্বাটে মুখের মেয়েদের গোল আকৃতির ভ্রæতে এবং যাদের মুখ গোলাকৃতির, তাদের ভ্রæ ভি আকৃতি রাখলে বেশি মানায়। যাঁদের ভ্রæ এমনিতেই অনেক ঘন ও কালো তাদের ভ্রæ আকার কোনো প্রয়োজনই নেই। মেকআপ নেওয়ার পর আইব্রো ব্রাশ দিয়ে হালকা করে আঁচড়ে নিলেই চলবে।

যাদের কপাল ছোট ও সামান্য উঁচু, তাদের ভ্রæ বেশি মোটা না রাখলেই ভালো দেখায়। অন্যদিকে চোখের পাতা ছোট যাঁদের, তাঁদের মোটা আকৃতির ভ্রæতে দেখতে বেশি ভালো লাগে না। যাদের জোড়া ভ্রæ, তারা যদি ভ্রæ মোটা রাখতে চান, তাহলে দুই ভ্রæর মাঝখানের জোড়া অংশটুকু প্লাক করে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

চোখের আকার বুঝেও ভ্রæ প্যাক করা উচিত। যাদের চোখ অপেক্ষাকৃত ছোট, তাদের ভ্রæ চিকন করে তোলা উচিত। আবার যাদের চোখের আকার কিছুটা বড় এবং টানা, তাদের ভ্রæ প্যাক করতে হবে মোটা করে। তবে এই মোটা ভাব যেন মুখের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যে সুতা দিয়ে ভ্রæ প্যাক করা হচ্ছে, ওই সুতা কিছুক্ষণ স্যাভলন বা ডেটল মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ভালো হয়। ভ্রæ প্যাকের পর বরফ দিয়ে হালকা করে ঘষে নিলে ফোলা ভাবটা কেটে যায়। এরপর হালকা কোনো ক্রিম দিয়ে মালিশ করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাজে ভ্রæ :
চোখের সাজ শুরু করার আগে ভ্রæর দিকে নজর দিন। ভ্রæর বাড়তি চুলগুলিকে উঠিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ছোট শক্ত ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ে শেপ দিতে হবে। আইব্রো পেন্সিলের হালকা ছোট ছোট টানে ভ্রæ দু’টিকে গাঢ় করে নিতে পারেন। ভ্রæর নিচ থেকে চোখের ওপরের পাতা অর্থাৎ আইলিড অংশটিতে আইশ্যাডোর হালকা প্রলেপ লাগান, ভাঁজ অংশটিতে লাগান গাঢ় করে এবং এটি বাইরের দিকে উঠিয়ে উঠিয়ে মিলিয়ে দিন। আইলিডের ঠিক মাঝখানটিতে ও ভ্রæর নিচে হাইলাইটার লাগান। হাইলাইটারটি ব্রোঞ্জ কালারের হতে পারে। কালো বা রঙিন আইলাইনার দিয়ে চোখের ধার ঘেঁষে আউটলাইন আঁকুন। রেখাটি শুরু হবে চোখের ভেতরের কোণা থেকে এবং ক্রমশ মোটা হয়ে যাবে। বাইরের কোণায় সামান্য উঠিয়ে দিন রেখাটিকে। চোখের নিচের পাতায় কাজল লাগান অথবা সামান্য আইশ্যাডো লাগাবেন চোখের বাইরের কোণা থেকে পাতার মাঝখান অবধি। হালকা রঙের পেন্সিলের রেখা যদি টেনে দেন নিচের পাতার ভিতর দিক দিয়ে তবে চোখটিকে সামান্য বড় দেখাবে। এরপর লাগান মাস্কারা।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ভ্রæ গজানোর ৬ টি উপায়
চেহারার মধ্যে চোখের ভ্রæ হলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। একে সঠিক ভাবে, সঠিক শেইপে না রাখলে পুরো চেহারায় ভ্রæ ২টি হয়ে উঠে বেমানান আর যতই সৌন্দর্য চর্চা করিনা কেন ভ্রæ আকর্ষণীয় না হলে পুরো সাজটাই নষ্ট। ঘরে বসে একটু যতœ নিতে পারলেই কিন্তু অনেক দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তাই ঘরে বসেই কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারেন তা জেনে নিন-

০১. ক্যাস্টর অয়েলঃ ক্যাস্টর অয়েলে এমন কিছু অসাধারণ রাসায়নিক মিশ্রণ আছে যা অন্যান্য বীজ ও তেলে খুব কমই লক্ষ্য করা যায়। ক্যাস্টর অয়েল আঙ্গুলে মাখিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করুন ভ্রæতে এবং কিছুক্ষনের জন্য রেখে দিন। ৩০ মিনিট পরে ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে এবং ফেইস ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং পরপর কয়েকদিন এই প্রসেসটা চালিয়ে যান, ভাল ফল পাবেন তবে ইরিটেশন হলে বন্ধ করে দিবেন।

০২. নারকেল-লেবুর মিশ্রনঃ চার ভাগের ১ ভাগ নারকেল তেলের সাথে খোসা ছাড়ানো পাতলা করে কাটা লেবুর স্লাইস একটা পরিষ্কার পাত্রে রেখে দিন সারা রাত। এই মিশ্রণটি তুলোয় লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন রাতে ঘুমানোর আগে তবে সূর্যের আলোতে কখনই নয়।

০৩. পেঁয়াজঃ পেয়াজের ঝাঁঝালো উপাদানটাই কিন্তু আপনার ভ্রæ গজানোতে অনেক দ্রুত সাহায্য করবে। পেঁয়াজ ছেঁচে এর রস ভ্রæ এর নীচে তুলো দিয়ে লাগিয়ে নিন এবং শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে আরও কয়েক প্রলেপ দিন।

০৪. মেথিঃ কয়েকদানা মেথি পেস্ট করে লাগাতে পারেন। সেক্ষেত্রে মেথির সাথে অ্যালমন্ড অয়েল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন তাতে আপনার স্কিন আর্দ্রতা পাবে। এই মিশ্রণ লাগাবেন রাতে ঘুমের আগে এবং সকালে ধুয়ে ফেলবেন।

০৫. দুধঃ দুধ এমন একটি জিনিস যার পুষ্টি ও উপকারিতার শেষ নেই। দুধে তুলোর বল ডুবিয়ে ম্যাসাজ করুন ভ্রæতে। এর প্রাকৃতিক উপাদান আপনার ভ্রæ এর চুলের গোঁড়া পর্যন্ত গিয়ে একে পুষ্টি যোগাবে এবং সেই সাথে দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

০৬. ঘৃত কুমারীঃ যদি আপনার ভ্রæ বেশি প্লাক করার কারণে পাতলা হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে ঘৃত কুমারীর রস আপনার ভ্রæ গজাতে সাহায্য করবে। ঘৃত কুমারীর পাতা ছেঁচে সেটার রস লাগান ভ্রæর উপরে। এর ভেষজ প্রভাব আপনার ভ্রæ গজাতে সাহায্য করবে।

সুবিধা মত এর একটি করে ট্রাই করে দেখেন কোনটি আপনার ভ্রæ এর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ একেক জনের ত্বক একেক রকম হবার কারণে একেকটা জিনিসের প্রভাব একেকভাবে পড়ে।

#