অর্ধেক মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নাই: সিপিডি

273
0

দেশে অর্ধেক মানুষের কোন আর্থিক নিরাপত্তা নাই জানিয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বাংলাদেশ একটি আধুনিক প্রগতিশীল মধ্যম আয়ের দেশ, অথচ তার চার ভাগের এক ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে থাকবে এটা হতে পারে না।

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে গার্ডেনিয়া ব্যানকুয়েট হলে সেন্টার পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত সার্বজনীন পেনশন প্রকল্প নিয়ে কাঠামোগত অনুসন্ধান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ প্রগতিশীল আধুনিক মধ্যম আয়ের দেশ হবে, তার অর্ধেক মানুষের কোন সামাজিক নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের আয়ের ব্যাপারে বা অন্য কোন ঝুঁকির ব্যাপারে কোনো নিরাপত্তা থাকবে না এই জিনিসটা আমার কাছে পরিষ্কার।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো বলেন, চার ভাগের এক ভাগ মানুষ গভীর দারিদ্র্যে থাকবে। আবার অর্ধেক মানুষের কোন আর্থিক নিরাপত্তা নাই, এটা কোন আধুনিক মধ্য আয়ের দেশ হতে পারে না। আজকের আলোচনা সেই ঘাটতি টাকেই পূরণ করার জন্য।

তিনি বলেন, এটাকে বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দরকার। সেটা আমরা ক্রমান্বয়ে দেখতে পারছি। এটার কারিগরি দিক প্রস্তুতি, এটার কৌশল, অর্থায়নের বাস্তবায়ন নিয়ে অনেক বক্তব্য এখানে এসেছে। সেটা নিয়ে আরো কাজ করা প্রয়োজন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পেনশন স্কিম শুধু পেনশন স্কিম না, এটার সাথে বৃহত্তম অর্থনৈতিক এবং কাঠামোগত সংস্কার নীতি সংশোধন এবং এটার সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল এগুলোর সাথে জড়িত আছে। তাই শুধু ওইটুকু করবো আর বড়টা করবো না এটা হতে পারে না। সেটা এর সাথে যোগ করে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এগুলো করতে হলে আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। যদি কোন নীতির পক্ষে সোচ্চার সামাজিক চাপ না থাকে তাহলে সরকারের অনেক প্রয়োজনের ভেতরে এটা হারিয়ে যায়।

সবার উদ্দেশ্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আজকে আমাদের একটা বড় উদ্দেশ্য ছিল সবার মধ্যে চেতনা আনা। এটার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আপনারা যাতে বিভিন্ন জায়গায় সোচ্চার হোন সেটাও উদ্দেশ্য। আপনারা সোচ্চার হলেই এটি বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১১ শতাংশ। এই হতদরিদ্র ১১ শতাংশ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব দেশের জনগণের জন্য ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করা এবং আমাদের সরকার সেটি করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকার ৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে তখন মাথাপিছু ১০০ টাকা ভাতা দিয়ে কল্যাণ মুখী কাজ শুরু করেছিল। এবার ক্ষমতায় আসার পর এটি এক্সপান করেছে। ৬০ শতাংশ মানুষকে আমরা এই সেবা দিচ্ছি। বেশিরভাগ এলাকা কাভার করেছি এক-তৃতীয়াংশ বাকি আছে সেটিও আমরা কাভার করতে পারবো।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভিতরে একটি সেল আছে যেটি পেনশন স্কিম নিয়ে কাজ করছে। সুতরাং আগামীতে আপনারা এই সেলের সঙ্গে আলোচনা করে আরো ভাল ভূমিকা রাখবেন।

সার্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের দেশে ১০ শতাংশের বেশি পেনশন কভারেজ নাই। একটা পেনশন চালু হলে সেটা পরিবর্তন করা কঠিন, তাই আমাদেরকে সাবধানতার সাথে করতে হবে।

তিনি সার্বজনীন পেনশন চালু করার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেন, পেনশনের পরিমাণটা পর্যাপ্ত হতে হবে। পেনশন স্কিম সাশ্রয়ী মূল্যের মধ্যে হতে হবে এবং এটা টেকসই হতে হবে।

জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের দেশে যারা দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করেন তাদেরকে উপরে নিয়ে আসতে হবে। সারাবিশ্বে যাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের নিচে তাদের দেশে সার্বজনীন পেনশন নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্ব সংলাপের আরো বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, এমপি, অর্থনীতিবিদ ড.জাহিদ হুসেন, অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাঃ দীপঙ্কর দত্ত প্রমুখ। সংলাপের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান।